প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 6, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 22, 2026 ইং
দিঘলিয়ার জামান জুট মিলে দখলচেষ্টা ও হুমকির অভিযোগ থানায় মামলা করার আবেদন

খুলনা প্রতিনিধি: খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার জামান জুট মিলস লিমিটেডের জায়গা দখলের চেষ্টা, শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ, মিলের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা এবং অস্ত্র প্রদর্শন করে হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে দিঘলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছে মিল কর্তৃপক্ষ।
জামান জুট মিলস লিমিটেডের প্যাডে দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি পক্ষ বিভিন্নভাবে মিলের জায়গা ও স্বাভাবিক কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে আসছে। অভিযোগে মো: আলতাপ হোসেন সহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, এর আগেও অভিযুক্তরা মিলের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে মারধর ও দুর্ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে এবং দিঘলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরী ও মামলা করার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে মিলের নিরাপত্তাকর্মীসহ অন্যান্য কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যবহৃত রাস্তা দখলের চেষ্টা করা হয়। এতে মিলের উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক-কর্মচারীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে মিলের প্রধান ফটকের সামনে গাছ লাগানো, মিলের জায়গায় প্রবেশ এবং শ্রমিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ানোর ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ মিলের ট্রাক চলাচলে বাধা দেওয়ার ঘটনায় আপত্তি জানালে একপর্যায়ে মিলের রপ্তানি কর্মকর্তা মো: কামরুল মোড়ল ও অভিযোগকারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, মো: আলতাপ হোসেনের ছেলে জনি খানকে বাড়ি থেকে বন্দুক নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ সময় সহযোগী হিসেবে জাহিদ ও তার ভাই ধনির নামও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, শ্রমিক-কর্মচারীদের সামনে অস্ত্র প্রদর্শন করে গুলি করে হত্যার হুমকি এবং মিল পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় মিল কর্তৃপক্ষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে মিলের রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, মিলের পাশে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো বৈধ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা লেনদেন না থাকলেও তারা মিলের জায়গা দখলের চেষ্টা করছেন। ভবিষ্যতে তারা মিলের আরও ক্ষতি করতে পারেন এবং মিল পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আলতাফ খান পুএ জনি খান সহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৮/১০ জন এই ঘটনার সাথে জড়িত ছিল বলে উল্লেখ করেন।
এ অবস্থায় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আজকের যায় যায় বেলা