বিশেষ প্রতিনিধি খুলনা।
খুলনা বিভাগের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে একক আধিপত্য, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন বকুল ভাইয়ের এপিএস ও খালাতো ভাই শেখ সাদী এবং বোরহানউদ্দিন সেতু। দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এই দুইজনের বলয় ও ক্ষমতার দাপটে খুলনা-৩ আসনে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তারসহ পুরো বিভাগের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ব্যবসায়িক পরিবেশ জিম্মি হয়ে পড়েছে।
টেন্ডার দখল ও সিন্ডিকেট রাজত্ব
অভিযোগ রয়েছে, শেখ সাদী তার ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জোরপূর্বক টেন্ডার বাগিয়ে নিচ্ছেন। পুরো খুলনা অঞ্চলের বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট এখন তার হাতে নিয়ন্ত্রিত। সাধারণ ব্যবসায়ী কিংবা স্থানীয় ঠিকাদাররা কোনো কাজ করতে পারছেন না। নির্দিষ্ট কমিশন ও মোটা অঙ্কের টাকা ছাড়া কোনো ফাইল বা টেন্ডার ছাড় পাচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। যে বা যারা টাকা দিচ্ছে, কেবল তাদের পক্ষেই কাজ করা হচ্ছে।সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও বিতর্ক তৈরির কৌশলঅন্যদিকে এপিএস হওয়ার সুবাদে বোরহানউদ্দিন সেতু স্থানীয় সংবাদপত্র ও সংবাদমাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রে জানা যায়, খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান পদ না পাওয়ায় ওয়াসার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সংবাদমাধ্যমে মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশে বাধ্য করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, 'বকুল ভাই' তাদের সব অপকর্মে সম্মতি না দেওয়ায় তাকে নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর ফলে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা উত্তেজিত ও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছেন, যা মূল ধারার রাজনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং আসন্ন নির্বাচনে ভোট ব্যাংক ধসের ঝুঁকি তৈরি করছে।সাংসদ বকুলকে একঘরে করার কৌশলস্থানীয় প্রবীণ ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, শেখ সাদী ও সেতু পরিকল্পনা করে খুলনা-০৩ আসনের মূলধারার রাজনীতি থেকে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন।
তারা গুটিকয়েক বিতর্কিত ব্যক্তি, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী এবং সাবেক সরকারি দল আওয়ামী লীগের সুবিধেবাদী লোকজনকে সাথে নিয়ে বকুলকে রাজনৈতিকভাবে ‘বোতলবন্দী’ বা একঘরে করে রেখেছেন। বাস্তবে বকুল ভাইয়ের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি-উভয় অবস্থাতেই এই দুই ভাই-ই এখন স্থানীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।নেতাকর্মীদের বিচ্ছিন্ন করে 'বোতলবন্দী' করার কৌশলস্থানীয় রাজনীতিতে ত্যাগী ও জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীদের মাইনাস করে গুটিকয়েক চিহ্নিত অপরাধী, চাঁদাবাজ ও বিতর্কিত রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের নিয়ে একটি বলয় তৈরি করা হয়েছে। এই বলয়ের মাধ্যমে বকুল ভাইকে মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন ও জিম্মি করে রাখা হয়েছে। ফলে তাঁর বর্তমান কিংবা অনুপস্থিতি-সব অবস্থাতেই এই দুই ভাই ক্ষমতার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।আসন্ন মেয়র নির্বাচনকে ঘিরে জামায়াত আঁতাতসবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আসন্ন খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে মঞ্জু ভাই কিংবা বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করার উদ্দেশ্যে নেপথ্যে জামায়াতের সঙ্গে কৌশলী যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে এই চক্রটি। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এবং তৈরি হচ্ছে চরম বিভাজন।
খুলনা-৩ আসনের সাধারণ জনগণ ও রাজপথের তৃণমূল কর্মীরা এই অপশাসন, সিন্ডিকেট এবং অভ্যন্তরীণ চক্রান্ত থেকে নিষ্কৃতি চান। দলের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং নিরপেক্ষ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে এই দুই ভাইয়ের অপতৎপরতা বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।