এস এম মেহেদী হাসান, দিঘলিয়া:
মাত্র ১২দিন আগে দুই সন্তানের নামে হেবা দলিল করে দিয়ে সেই জমি ৭০লক্ষ টাকায় এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেছে একটি চক্র। ঘটনাটি ঘটেছে দিঘলিয়া উপজেলার হাজীগ্রামে। আর প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের আলহাজ্ব শিবাজী ফকির।
ভুক্তভোগী আলহাজ্ব শিবাজি ফকিরের মা বাদী হয়ে মোঃ মহাসিন শেখ এবং মোঃ ইয়াছিন শেখকে আসামী করে খুলনার আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নাম্বার ৬৩৭ তারিখ ৩ আগস্ট ২০২৫। মামলা সুত্রে জানা গেছে, দিঘলিয়া উপজেলার হাজীগ্রামের গোলাম রসুল ৬ শতাংশ জমি বিক্রির প্রস্তাব করেন উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের আলহাজ্ব শিবাজি ফকিরের নিকট।
সে মোতাবেক গত ১আগষ্ট/২০২৫ইং তারিখ দিঘলিয়া সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে দলিল সম্পন্ন হয়। দলিল সম্পন্নের আগে রেজিষ্ট্রি অফিসে বসে জমি বিক্রেতা গোলাম রসুল ও তার দুই ছেলে মহসিন ও ইয়াসিন ৭০লক্ষ টাকা বুঝে নিয়ে দলিলে স্বাক্ষর করে জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়।
অপর দিকে গোলাম রসুল জমি রেজিস্ট্রির ১২দিন আগে গোপনে তার দুই পুত্র মহসিন ও ইয়াসিন এর নামে বিক্রিত জমি হেবা দলিল করে দিয়ে প্রতারণা করেছে বলে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
এব্যাপারে জমি ক্রেতা আলহাজ্ব শিবাজী ফকির বলেন, ২০২৪ সালের মহসিন শেখ ও ইয়াসিন শেখ হাজী গ্রাম নিবাসী তাদের পিতা গোলাম রসুল শেখ ও তার স্ত্রী দলিল লেখক দের সামনে টাকা বুঝে নিয়ে আমার নামে জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়। আমার জমি রেজিস্ট্রি হয় ২০২৪ সালের পহেলা আগস্ট। কিন্তু ওরা ১২দিন আগে মহসিন ও ইয়াসিন তার বাবা গোলাম রসুলের কাছ থেকে হেবা দলিল করে নেয়। পরে আমাকে লিখে দেয়।
এখন আমি এর তদন্তসহ বিচার দাবি করছি। হাজী গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য দিদার মোল্লা বলেন, গোলাম রসুল শেখ ৬ শতক জমি দুই ছেলেকে হেবা রেজিস্ট্রি করে দিয়ে ১৫ দিন পরে শিবাজী ফকিরের কাছে ৭০ লক্ষ টাকায় জমি বিক্রি করে জঘন্য প্রতারণা করেছে। গোলাম রসুলের দুই ছেলে মহসিন ও ইয়াসিন শিবাজীর কাছ বিক্রয়কৃত জমি ভাড়া নিয়ে শিবাজী ফকিরকে তাড়িয়ে দেয়।
এ বিষয়ে হাজি গ্রামের দুই নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ আব্দুর রশিদ বলেন, হাজী গ্রামের মানুষ জানে এই ক্লাবটি ৫২ বছরের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। সাধারণ মানুষের ক্লাব এই ক্লাবটিও প্রতারণার মাধ্যমে দখল করে নিয়েছেন এই প্রতারক চক্র।
হাজী গ্রামের ২নং ওয়ার্ড বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক আজাদ সরদার বলেন, এরা একটি কুচক্রী মহলের সাথে আঁতাত করে প্রতারণার মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রির মাধ্যমে ৭০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়া এখানে সাধারণ মানুষের যে ক্লাবটি আছে ক্লাবটি দখল করে নেয়।
এলাকাবাসীদের পক্ষে এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাই। মামলার আসামী মোঃ মহাসিন শেখ ও ইয়াসিন এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।